তানোরে ক্লুলেস আরেক হত্যার রহস্য উন্মোচন, পরকীয়ার জেরেই খুন।

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৪৯ বার পঠিত

 

 

বাপ্পি তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি….

চলতি বছরের গত ২৯ এপ্রিল রাজশাহীর তানোর উপজেলার বংশীধরপুর এলাকার যুবক প্রকাশ দাস (২০) এবং ২৫ আগস্ট টকটকিয়া গ্রামে তহুরা বিবি (৩৯) নামে এক গৃহবধূর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব অপরাধীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি সর্বশেষ ১ সেপ্টেম্বর মনিরুল ইসলাম নামে তানোরের দুর্গাপুর এলাকায় এক গ্রাম্য কবিরাজ খুনেরও অপরাধীদের ধরে ফেলেছে থানা পুলিশ।

হত্যাকণ্ডের একদিনের মাথায় পরকীয়ার জেরে মনিরুল হত্যারহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেফতার তিন জন ৩ সেপ্টেম্বর গত শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরা হলেন- উপজেলার দুর্গাপুরের বিরেন চন্দ্র পন্ডিতের ছেলে জিতেন চন্দ্র পন্ডিত (৪৬), তার স্ত্রী কামনা রাণী (৩৩) এবং তাদের ছেলে জয় চন্দ্র পণ্ডিত (২১)। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওসি বলেন, প্রথমে একই গ্রামের বাসিন্দা কামনা রাণীকে ধর্ম মা বানিয়েছিলেন মনিরুল। তার স্বামী-সন্তানের অনুপস্থিতিতে পরে পরকীয়ায় লিপ্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীর সাথে মনিরুলের পরকীয় চলছিল। বেশ কয়েকবার স্বামী-সন্তানের হাতে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন ওই নারী। কিন্তু স্বামী-সন্তানের কথায় সম্প্রতি ওই পথ থেকে সরেও আসতে চান ওই নারী। কিন্তু তাকে কিছুতেই ছাড়ছিলেন না প্রেমিক মনিরুল। ওই নারীর স্বামীও তাকে কয়েক দফা সাবধানও করেন। কিন্তু তাতে কান দেননি মনিরুল। এই পথ থেকে সরাতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ওই নারীর স্বামী।

ওসি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তিন আসামী তাদের জানিয়েছেন, বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ওই নারীর বাড়িতে যান মনিরুল। ওই নারী মনিরুলের সাথে পরকীয় ছিন্ন করতে চান। এনিয়ে তাদের কথাটাকাটাটি হয়। এক পর্যায়ে ওই নারী মনিরুলের গালে চড় মারেন। পরে পিছন থেকে তার স্বামী বাশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মনিরুল। এরপর গভীর রাতে ছেলেকে নিয়ে মরদেহ ফাঁকা মাঠে ধানক্ষেতের পাশের নালায় ফেলে আসেন। পরদিন খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার হত্যা মামলা দায়ের করে। এরপর সন্দেহভাজন হিসেবে ওই তিন জনকে আটক করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা মনিরুলকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিকে হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি রাকিবুল বলেন, গ্রেফতার তিন জনকে শুক্রবার আদালতে নেয়া হয়। তারা আদালতে ঘটনার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তানোর থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়েনের পারিশো দুর্গাপুর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের সুদির মুন্নার ছেলে। কবিরাজি ছাড়াও কৃষিকাজ করতেন তিনি। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছে, প্রথম বিয়ের পর স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় মনিরুলের। এরপর আবার বিয়ে করলে সেই স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে অনেকটা ভবঘুরে জীবনযাপন করতেন মনিরুল ইসলাম। এই ঘটনায় বিকেলে নিহতের ভাই রেজাউল ইসলাম মামলা দায়ের করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর