চাঁপাইনবাবগঞ্জে জোরপূর্বক প্রি-পেইড মিটার স্থাপনকালে বাধার মুখে নেসকো

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৪০ বার পঠিত

 

 

 

ফেরদৌস সিহানুক শান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একজন গ্রাহকের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করলো নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেড নেসকো।

সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার পিটিআই মাস্টারপাড়া মহল্লার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সারোয়ার-ই-আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে নেসকোর কর্মকর্তারা। এ সময় অন্যান্য বাড়িতেও জোরপূর্বক মিটার লাগাতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন নেসকো কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশের একটি পিকআপ আসে ঘটনাস্থলে। আরও একটি বাড়িতে লাগানো প্রি-পেইড মিটার ও লাগানোর উদ্দেশ্যে খুলে ফেলা দু’টি পুরাতন মিটার জনগনের বাধার মুখে পড়ে পুরাতন মিটারই লাগাতে বাধ্য হন কর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৪ টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সারোয়ার-ই-আলমের বাড়িতে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে।

এ সময় তিনি বলেন, অনুমতি না নিয়েই নেসকোর কর্মীরা প্রি-পেইড মিটার লাগানোর জন্য বাড়ির ডিজিটাল মিটারটি খুলে ফেলে। এ সময় তাঁর মিটারটি পরিবর্তন করতে নিষেধ করলে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেন। তবুও মিটার পরিবর্তন করতে চাই না বলে জানিয়ে দিলেও নেসকো তাঁরা কথা শোনেনি।

এ সময় স্থানীয়রা জানান, গ্রাহকদের অনুমতি না নিয়ে জোরপূর্বক প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের জন্য অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন, সেরাজুল ইসলাম, মতিউর রহমানেরও বাড়ির মিটার খুলে ফেলে নেসকোর কর্মীরা। বাধার মুখে তাঁদের পুরোনো মিটারটিই আবারও স্থাপন করেন কর্মীরা।

অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বাড়িতে না থাকায় অনুমতি না নিয়েই দুপুরে আগের মিটার পরিবর্তন করে প্রি-পেইড মিটার লাগানোর কাজ করছিল নেসকোর কর্মীরা। বাড়িতে এসে এ ঘটনা দেখতে পেয়ে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী বিতরণ-২ সেলিম রেজাকে প্রতিবাদ জানানো হয়। বাক-বিতন্ডার পর তাঁরা প্রি-পেইড মিটার খুলে আগের মিটারটি লাগিয়ে দেন।

সেরাজুল ইসলামের ছেলে সিহাবুল ইসলাম জানান, না জানিয়েই আগের মিটারটি খুলে প্রি-পেইড মিটার লাগানোর উদ্যোগ নিলে বাধা দেয়া হয়। এ সময় নেসকোর কর্মীদের সাথে বাক-বিতন্ডা হলে তাঁরা বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেয় এবং দুই কর্মী মিটার ভেঙ্গে ফেলতে উদ্যত হন। এমনকি পুরোনো মিটারের সংযোগও খুলে ফেলে। স্থানীয়রা বাধা দিলে উত্তেজনাকর পর্যায়ে চলে যায় পরিস্থিতি। এসময় ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি পিকআপ এসে হাজির হয়। সব শুনে গ্রাহকদের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে মিটার লাগাতে বলে চলে যান পুলিশের দলটি। বাধার মুখে নেসকোর কর্মীরা ৩ জনের বাড়ির মিটার পূর্বেরটি লাগিয়ে দিলেও সারোয়ার-ই-আলমের বাড়ির মিটারটি তাঁরা লাগিয়ে চলে যায়।

এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা নেসকো’র নির্বাহী প্রকৌশলী বিতরণ-২ সেলিম রেজা বলেন, প্রি-পেইড মিটার লাগানোর জন্য কয়েকদিন আগেই মিটার নম্বর ও তথ্য নিয়ে যায় নেসকোর কর্মীরা। এরপর সেগুলো অফিসিয়ালি লাগানোর জন্য মিটার নিয়ে আসা হয়। তবে সারোয়ার-ই-আলমের বাড়িতে জোরপূর্বক মিটার লাগানোর ব্যাপারে সদুত্তোর দেননি তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্তরের নাগরিকদের নিয়ে নবাবগঞ্জ ক্লাব মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় নেসকোর কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, জোরপূর্বক প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করবে না নেসকো। তবে গ্রাহকদেরকে বুঝিয়ে মিটার লাগানো হবে।

 

ফেরদৌস সিহানুক শান্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

০১৭৫৮৩৫৪২৭১

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর