টলী চালক আসলাম হত্যার রহস্য উদঘাটন করে পবা-থানা পুলিশ

সারোয়ার জাহান বিপ্লব
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৮৩ বার পঠিত

সারোয়ার জাহান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি রাজশাহীঃ

রাজশাহী পাব-থানা, আরএমপির প্রচেষ্টায় প্রায় আট মাস আগে ঘটে যাওয়া টলী চালক আসলাম আলী (৩২) হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। মূলত পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে পবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুম মনির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি আরও জানান, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দুইজন আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। এরা হলেন, নিহত আসলাম আলীর স্ত্রী শাবানা বেগম ওরফে সুমি (২২) ও তার প্রেমিক মোস্তাকিম আলী (৩০)। এ বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামী শাবানা বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারা জবানবন্দী প্রদান করে। বর্তমানে আসামী শাবানা ও মোস্তাকিম জেল হাজতে আছে। অপর আসামী জনি পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যহত আছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারী পবা থানাধীন দাদপুর গ্রামের উত্তর বিল নামক স্থানে ছুটবিল পুকুর পাড়ে জনৈক নজরুল ইসলামের রসুন চাষের জমির পশ্চিম দক্ষিন কর্নারে একজন পুরুষের মৃতদেহ পাওয়া যায়। যার পরনে ছিল ফিরোজা রংয়ের ট্রাউজার ও পেস্ট রংয়ের জার্সি গেঞ্জি। মৃত ব্যক্তি বড়গাছী স্কুলপাড়ার মৃত মুনসুর আলীর ছেলে আসলাম আলী (৩২)।

মৃতের চাচাতো ভাই তালগাছি গ্রামের শামসুল হকের ছেলে শহিদুল ইসলাম রঞ্জু মরদেহ সনাক্ত করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পাশাপাশি সংবাদদাতা ফারুক আলী অজ্ঞাতনামা আসামী করে পবা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রেজাউল করিম মৃত দেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে তদন্তকালীন সময়ে ৩০ জুলাই মৃতের সুরতহাল রিপোর্ট, ভিসেরা রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের মতামত অনুযায়ী কে বা কাহারা মৃত আসলাম আলীকে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে জানতে পারেন। যা একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। প্রেক্ষিতে ৩ আগষ্ট হত্যা মামলা রুজু করা হয়।

এরপর উপ-পুলিশ কমিশনার (শাহমখদুম) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এর নির্দেশনায় শাহমখদুম জোনের এডিসি নুর আলম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিওএম) সুকুমার মোহন্ত, পবা থানা ওসি সিরাজুম মনির, ইন্সপেক্টর তদন্ত বানী ইসরাইল, মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রেজাউল করিম তথ্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় তিনজন আসামী সনাক্ত করা হয়। এদের মধ্যে একজন হলেন মৃত আসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী শাবানা বেগম ওরফে সুমি। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে শাবানা বেগম ওরফে সুমি হত্যাকান্ডের বিষয়ে স্বীকার করেন।

১৬৪ ধারা জবানবন্দী অনুযায়ী জানা যায়, পবা থানার চক গোয়ালদহ এলাকার কুরবান আলীর ছেলে মোস্তাকিম আলীর সাথে তার মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মোবাইল ফোনে প্রেমের সর্ম্পকের বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের মৃত আসলামের সাথে ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়।

এর ফলশ্রুতিতে শাবানা ও মোস্তাকিম আসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে মোস্তাকিম ও তার বন্ধু জনি দাদপুর নজের মোড় হতে আসলামকে পুকুর পাড়ে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে শাবানা ওরফে সুমি উপস্থিত হলে তাদের মধ্য ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এর একপর্যায়ে আসলাম মাটিতে পড়ে গেলে মোস্তাকিম, জনি ও শাবানা একত্রিত হয়ে আসলামকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর