চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুলছাত্রীর উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দুই চাচাকে মারধর

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৩১ বার পঠিত

ফেরদৌস সিহানুক শান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশম শ্রেণির ছাত্রী এক ভাতিজিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তার দুই চাচাকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া বাজার এ ঘটনা ঘটে। ভিকটিমের চাচা আনিরুল ইসলাম রবিবার রাতেই গোমস্তাপুর থানায় উক্ত্যক্তকারী যুবকসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

 

আহতরা হলেন- গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া কাউন্সিল বাজার এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে আনিরুল ইসলাম (৩৮) ও মিমনুর রহমান (২৩)। এ ঘটনায় আনিরুল ইসলামের মাথায় জখম ও মিমনুর রহমানের ডান হাতের আঙুলে জখম হয়। তাদেরকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।

 

ভিকটিম স্কুলছাত্রী, তার পরিবার, পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত এক বছর ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে বিভিন্নভাবে উক্ত্যক্ত করে একই গ্রামের কাইদুলের ছেলে নিসান (১৯)। এনিয়ে কয়েকমাস আগে থানায় জিডি করলে পুলিশ আর এমন কাজ করবে না শর্তে মিমাংসা করে দেয়। থানায় জিডি দেয়ার পরেও উক্ত্যক্ত করা বন্ধ হয়নি। এরই জের ধরে প্রতিবাদ করায় মেয়েটির দুই চাচাকে বেধড়ক মারধর করে নিসান ও তার লোকজন।

 

মারধরের শিকার ভিকটিমের চাচা আনিরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই বিদেশে থাকেন৷ ভাতিজিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দেয় নিসান। তাতে রাজি না হওয়ায় রাস্তাঘাটে বিভিন্ন আজেবাজে মন্তব্য করে। এমনকি থানায় জিডি দেয়ার পর হতে সন্ধ্যার পর বাড়িতে ঢিল ছুঁড়ে এবং বাড়ির আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে। বিষয়টি নিসানের বাবাকে কয়েকবার বলা হলেও তিনি জানান, ছেলেকে বুঝিয়ে বা শাসন করে পারছি না। ৩ মাস আগে গভীর রাতে বাড়ির পেছনে ধরেছিলাম তাকে। এসময় স্থানীয় লোকজন হাজির হলে চড়-থাপ্পড় দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

 

এসএসসি পরীক্ষার্থী ভিকটিম জানান, নদীতে গোসল করতে বা স্কুলে যাওয়া-আসার পথে বিরক্ত করে। মুখে এসিড মারবো, নষ্ট করে দিবো এসব কথা বলে হুমকি দেয়। এমনকি কথা বলার জন্য পথ আটকে দাঁড়িয়ে থাকে।

 

মেয়েটির মা গোলাপী বেগম বলেন, সামনে মেয়ের এসএসসি পরীক্ষা, অথচ এই সময়ে স্কুলে যাওয়ার পথেও তার শান্তি নাই। নদীতে গোসল করতে গেলে বা স্কুলে গেলে সবখানেই বিরক্ত করে। গত রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর বাড়ির পেছনে এসে নিসান দাঁড়িয়ে থাকে। এটি দেখে আমার এক দেবর তাকে রাতের বেলা এখানে থাকার কারন জানতে চাইলে বিভিন্ন উচ্চবাচ্য করে এবং দুই দেবরকে মারধর করে। ঘটনার পরদিন সোমবার সকালেও নানারকম প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এনিয়ে আমাদের পরিবার এখন নিরাপত্তা হুমকিতে রয়েছি।

 

গোমস্তাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) দিলীপ কুমার দাস জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর