চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইউপি ভোটার তালিকা সংশোধনে হাইকোর্টে রীট

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪১৫ বার পঠিত

 

ফেরদৌস সিহানুক শান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ৯নং দূর্লভপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ৪ নং ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা সংশোধনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। দূর্লভপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোহাঃ আব্দুর রাজিবের এ আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনকে এ আদেশ দেন বিচারপতি এনায়েতুর রহমান ও মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এর বেঞ্চ। ২৭ জুন এ আদেশ প্রদান করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে চেয়ারম্যান মোহাঃ আব্দুর রাজিব সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা সংশোধনের আবেদন জানিয়ে রিট করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আবেদনকারীরা আইন অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই আদেশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীদের কাছে সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশনা জারি করে বেঞ্চ।

জানা যায়, দূর্লভপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ৪ নং ওয়ার্ড (আটরশিয়া) এর সীমানা নির্ধারণ এবং এ ওয়ার্ডের সীমানার ভিতরে বসবাসকারী পার্শ্ববর্তী পাঁকা ইউনিয়নের ৭০০ পরিবার বাস করে। এ ওয়ার্ডে বসবাসকারী প্রায় ১ হাজার ৫০০ ভোটার পাঁকা ইউনিয়নের। তাছাড়াও বর্তমান পাঁকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জালাল উদ্দীন এবং ২ জন মেম্বার দূর্লভপুর ইউনিয়নে বাস করেন। এছাড়াও পাঁকা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুর্লভপুর ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থান করছে। ভোটার, বাসিন্দা ও প্রতিষ্ঠানগুলো দূর্লভপুর ইউনিয়নের মধ্যে হলেও এসকলের কার্যক্রম পাঁকা ইউনিয়ন কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে। এ সমস্যার কারণে বিশাল পরিমান পরিবার সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে দূর্লভপুর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে মনস্তাত্তিক বিবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এ বৈষম্যের শিকার হলেও কোন সুরাহা না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েছে। এ ১ হাজার ৫০০ ভোটারকে পাঁকা ইউনিয়ন হতে কর্তন করে দুর্লভপুর ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তি করা এবং সীমানা জটিলতা দুর করার আবেদন জানানো হয়েছে আবেদনে।

এব্যাপারে পাঁকা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালেক বলেন, পাঁকা ইউনিয়ন একটি নদী ভাঙ্গন এলাকা বেষ্ঠিত। পাশর্^বর্তী দুর্লভপুর ইউনিয়নের জমিতে মানবিক দিক থেকেই চরের লোকজন বাস করে আসছে, বিষয়টি সত্যই। দীর্ঘ ১৫/২০ বছর থেকে বাস করলেও কোন জনপ্রতিনিধি বা কোন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি নিয়ে কোন ঝামেলা বা জটিলতার সৃষ্টি করেন নি কোনদিনই। মানবিক দিক বিবেচনা করেই পরস্পর পরস্পরের সুবিধা-অসুবিধা বুঝে শুনেই চলাফেরা করে আসছে। একটি স্বার্থান্বেসী মহল বিষয়টি নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, এমনিতেই দুর্লভপুর ইউনিয়নের ভোটার প্রায় ৩৫ হাজার এবং পাঁকা ইউনিয়নের ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। দূর্লভপুর ইউনিয়নের ভোটার সংখ্যা অনেক, তারপরও পাঁকা ইউনিয়নের ভোটার থেকে কেটে দুলর্ভপুর ইউনিয়নে সংযুক্ত করার কোন প্রয়োজনই নেই। যদি ১৫০০ ভোটার ওই ইউনিয়নে সংযুক্ত করা হয়, তাহলে পাঁকা ইউনিয়নের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য পুরন হবে। তিনি পাঁকা ইউনিয়নের ভোটার কেটে দূর্লভপুর ইউনিয়নে সংযুক্ত না করার জন্য পাঁকা ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। জেলা নির্বাচন কমিশনার মোঃ মোতাওয়াক্কিল রহমান আদেশ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি কিভাবে সমাধান করা যায়, আদৌ সম্ভব কিনা তা ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর