রাজশাহীর বাগমারায় পরকীয়া প্রেম করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা গ্রাম পুলিশ, ছেড়ে দিলেন চেয়ারম্যান

সোহেল রানা
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২১
  • ৮৬৯ বার পঠিত

সোহেল রানাঃবাগমারা প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দুই নম্বর নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদের সুজন পালশা গ্রামে পরকীয়া প্রেমের কারণে জনতার হাতে এক গ্রাম পুলিশ গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঐ গ্রাম পুলিশ সুজন পালশা গ্রামের মোহাম্মদ মেহের আলীর ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪৫)
এলাকাবাসী জানিয়েছেন চরিত্রহীন লম্পট গ্রাম পুলিশ মোঃ রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ তার প্রতিবেশী মোহাম্মদ আইদুলের স্ত্রীর মোছা: লাইলি বিবির (৩৫) দুই সন্তানের জননীর সাথে পরকীয়া প্রেম করে আসছিল। আজ বেলা আনুমানিক ১২ টার দিকে রফিকুল ইসলাম আইদুলের স্ত্রী লাইলি বিবির সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে গোপনে সুকৌশলে তার বাড়িতে গিয়ে আইদুলের ঘরে অবস্থান নেয়।
এ সময় আইদুল তার সাংসারিক কাজের জন্য বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিল। হঠাৎ ফিরে এসে রফিকুলকে ঘরে ঢুকতে দেখে আইদুলের সন্ধেহ হয়। বাড়িতে লাইলিকে একা পেয়ে রফিকুল তার শয়ন ঘরে প্রবেশ করে । এর কিছুক্ষণ পর তাদের অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখতে পায় আইদুল। এরপর তার পাড়া-প্রতিবেশী আরো দুই একজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দুজনকে ঘরের ভিতরে রেখে দরজায় শিকল দিয়ে বন্ধ করে। অবশেষে তারা স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলতাফ হোসেনকে সংবাদ দেয় । এদিকে এই ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশে পাশের বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা এসে ভিড় জমায় এবং রফিকুল ইসলামকে নজর বন্দি করে রাখে।

ইউপি সদস্য মোঃ আলতাফ হোসেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মতিউর রহমান ঘটনাস্থলে উভয় পক্ষের কাছ থেকে তাদের বক্তব্য শোনেন। তারপর উভয়ের সম্মতিতে আইদুল তার স্ত্রীকে তালাক দিবে এবং রফিকুল ইসলাম তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় । অতঃপর এক লক্ষ টাকা দেনমোহরে তাদের শুভ বিবাহ সম্পন্ন হবার সিদ্ধান্ত হলে উপস্থিত জনগণ তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে বাক বিতন্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মতিউর রহমান, এবং ইউপি মেম্বার আলতাফ হোসেন, উপস্থিত গ্রাম প্রধানগণ রফিকুলের একলাখ টাকা জরিমানা করেন। তার মধ্যে মাত্র ছয় হাজার টাকা নগদ আদায়, যে টাকা আলতাফ মেম্বার নিজের কাছ থেকে জমা দিয়েছেন, তা থেকে সবাইকে মিষ্টি খাওয়ানো হয়েছে এবং ৯৪ হাজার টাকা বাকি রেখে বিচার কাজ শেষ করেন বিচারক গণ। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত প্রষাশনিক কোন দপ্তরে কেউ লিখিত কোন অভিযোগ করেনি।
এদিকে সুজন পালশা গ্রামের গ্রাম প্রধান মোঃ মজিবুর রহমান, আলহাজ তমিজ উদ্দীন সহ আরো অনেকে জানিয়েছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম একজন লম্পট চরিত্রের মানুষ । গ্রামে তার একাধিক নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে রফিকুলের দুইজন স্ত্রী ছিল। তার মধ্যে এক স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন এবং বর্তমানে তার সংসারে এক স্ত্রী এবং ৩ সন্তান রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর