দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়ছে সোনালী ফসল 

ফেরদৌস সিহানুক শান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১৮৭ বার পঠিত

ফেরদৌস সিহানুক শান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাড়াই করার জন্য জোগাড় করে রাখা ধানে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (২৮ নভেম্বর) ও মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে প্রায় ৩ বিঘার অধিক ফসলী জমির ধানে আগুন দেয়া হয়। সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের পলশা মিশন বাজার সংলগ্ন পলশা আলিম মাদরাসার পেছনে চাষ করা জমিতে থাকা ধানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। দুই দিনে তিন জন বর্গাচাষীর সম্পূর্ণ ধান পুড়ে ছায় হয়ে গেছে।

 

কৃষক, শ্রমিক, প্রতক্ষ্যদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পলসা আলিম মাদ্রাসার পেছনে ও এসএম ভাটার পাশে রবিবার ও মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কে বা কারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। রবিবার দিবাগত রাতে দুই কৃষকের ১৪ কাঠা জমির ধান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে একইভাবে এক কৃষকের দেড় বিঘা বা ৩০ কাঠা জমির ধান আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।

 

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা হলেন- সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের পলশা দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত কালামের ছেলে আব্দুর রহিম, একই গ্রামের বিলাতের ছেলে মান্নান ও মো. রফিক। তাদের মধ্যে আব্দুর রহিমের ৮ কাঠা, মান্নানের ৬ কাঠা ও রফিকের ৩০ কাঠা জমির ধান আগুনে পুড়ে ছায় হয়েছে। সবগুলো ধানই জমিতে কেটে-বেঁধে রাখার পর স্তুপ করা ছিল।

 

ধানকাটা শ্রমিক আমিরুল ইসলাম বলেন, ১০-১২ দিন আগে ৪ জন আমিসহ ৪ জন শ্রমিক ধানগুলো কেটেছিলাম। কাটার পর শুকিয়ে ৪-৫ দিন আগে বেঁধে এক জায়গায় জমা (স্তুপ) করে রেখেছিলাম। দু-এক দিন পরেই জমিতেই ধানগুলো মাড়াই করতাম। কিন্তু আরও অন্যদিকে ধান মারতে যাওয়ায় দেরি করছিলাম। কিন্তু তার আগেই রাতে কে বা কারা রাতের অন্ধকারে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।

 

কৃষক মান্নান বলেন, ডিম বিক্রি করে খায়। সামান্য জমিতে ধান চাষ চাষাবাদ করেছিলাম। কিন্তু আগুনে পুড়িয়ে সব শেষ করে দিল। ধানগুলো নিয়ে চলে গেলেও মনে পশান্তি পেতাম। কারণ সবগুলো ধান নিয়ে যেতে পারত না, কিছুটা হলেও থাকতো। কিন্তু আগুনে পুড়ে এখন সবকিছু শেষ।

 

ধারদেনা করে দেড় বিঘা বা ৩০ কাঠা জমি চাষাবাদ করেছিলেন দিনমজুর রফিক। তিনি জানান, ধান পুড়ে ২৫ হাজার টাকা মতো দেনা হয়ে গেল। অন্য কোন ধান নাই। সব শেষ হয়ে গেল। ইট পুড়ার মতো করে শত কষ্টে চাষ ধান সব শেষ হয়ে গেছে। আল্লাহকে বিচার দেয়া ছাড়া কোন উপায় নাই। সন্ধ্যার দিকে দেখে এসেছিলাম। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। সকালে শুনলাম আগের মতো করে আমার জমিতেও আগুম লাগিয়েছে। জমিতে গিয়ে দেখি সব ধান পুড়ে ছায় হয়ে গেছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা খাবির উদ্দিন জানান, রবিবার যে দুইজনের ধান পুড়েছে তাদের কম ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দেড় বিঘা পরিমাণ জমির ধান পুড়েছে রফিকের। তার আর কোন ধান বা আয়ের উৎস নেই। রফিক খুব অসহায় হয়ে গেছে। যে বা যারাই এই কাজটি করুক, তা অত্যান্ত অমানবিক ও গর্হিত কাজ। একই মাঠে গত কয়েকদিন থেকে দুই দফায় ৩ জন কৃষকের ধানে আগুন দেয়া হলো। এটি অবশ্যই কাকতালীয় বা বিছিন্ন ঘটনা নয়। শত্রতা থাকলেও তো সবার সাথে হওয়ার কথা না। বিষয়টি নিয়ে এলাকার সকল কৃষক ও শ্রমিকরা খুবই আতঙ্কে রয়েছেন।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলে রাব্বী রেনু জানান, আগুনের ধান পড়ার পর ৩ জন কৃষক আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছিল। রাতের অন্ধকারের ঘটনা, এতে সন্দেহের প্রেক্ষিতে কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। তাই তাদেরকে থানায় সাধারণ ডায়েরী বা জিডি করার পরামর্শ দিয়েছি৷ আগুনে ধান পোড়া ৩ জন কৃষকই খুবই অসহায় বলে জানান তিনি।

 

বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক বা ইউপি সদস্য কেউ বিষয়টি আমাকে জানায়নি। রাতের মধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করব। কে বা কারা এমন কাজ করছে, সেবিষয়েও খোঁজ নিব৷ ইউনিয়ন পরিষদ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পাশে রয়েছে।

 

সদর মডেল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, এবিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান মুঠোফোনে জানান, এবিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর