আন্তঃজেলা গাড়ি চোরের গডফাদার চশমা তারেক ৩টি প্রাইভেট কারসহ গ্রেফতারঃঅনাকান্তির কন্ঠ।

মীর দুলাল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি!!
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০২২
  • ১০৭ বার পঠিত

আন্তঃজেলা গাড়ি চোরের গডফাদার চশমা তারেক ৩টি প্রাইভেট কারসহ গ্রেফতার!

মীর দুলাল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি!!

হবিগঞ্জ জেলা ও আন্তঃজেলা গাড়ি চোরের গডফাদারসহ বিভিন্ন অপকর্মের হোতা ‘চশমা তারেক’ কে হবিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা ডিবি পুলিশ।এ সময় ৩টি চোরাই প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন ভূয়া কাগজপত্র জব্দ করা হয়!শুক্রবার (০১ এপ্রিল ২২)ইং রাতে ঢাকা মিন্টু রোড এলাকার ডিবি পুলিশের সিনিয়র এএসপি আশরাফুল ইসলাম নেতৃত্বে একদল পুলিশ হবিগঞ্জ সদর পুলিশকে নিয়ে সাড়াশি অভিযান চালিয়ে হবিগঞ্জ শহরের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন।আটককৃত চশমা তারেক ইসলাম (ওলি)হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল রহমান মিয়ার ছেলে তারেক ইসলাম (ওলি)!নিজ এলাকায় তার পরিচয় অলি আহমদ শহরে উঠে ই রাতারাতি নাম গোপন করে তারেক ইসলাম হয়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়!

হবিগঞ্জ জেলা ও আন্তঃ সিন্ডিকেট এ সকলের কাছে সে চশমা তারেক নামে পরিচিত।হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লোকড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে তার বাড়ি।যদিও তেমন একটা লেখাপড়া করেনি সে। প্রাইমারি পাশ করে সে চট্রগ্রামের দাম পাড়ায় একটি হোটেল বয় হিসাবে কাজ করতেন!কয়েক বছর আগেও যার নুন আনতে পান্তা ফুরাতো সে আজ কোটি টাকার মালিক।গ্রেফতার এর বিষয় টি নিশ্চিত করেন।হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ এম মাসুক আলী।তিনি জানান ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ টিম হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ কে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করেন!

স্থানীয় সুত্রে জানা যায় কতিপয় অসাধু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় থেকেই সে অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে!চশমা তারেক ইসলাম এর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী (ঢাকা মেট্রো-গ-১৩-৩৩৭২) একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার কাশেম নামের জনৈক ব্যক্তির নিকট থেকে জব্দ করা হয়।এ ছাড়াও আরও দুইটি কালো ও লাল প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।তবে এগুলো কোনোটিরই বৈধকাগজপত্র নেই।

যদিও হবিগঞ্জ কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরিত নিলামের কিছু ডকুমেন্ট দেখানো হয়েছে, সেগুলোও ভূয়া।ইতোপূর্বেও হবিগঞ্জ শহরে অভিযান চালিয়ে ৪/৫টি দামি প্রাইভেটকারসহ গাড়ি চোর সিন্ডিকেটের সদস্য সহ দুই জনকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করে।ওই সময় তারেক ভারতে অবৈধ পথে আত্মগোপনে চলে যায়।কিন্তু কিছুদিন পর আবারও সে হবিগঞ্জ শহরে এসে পুনরায় চোরাই গাড়ির ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাফরুল থানার বিআরটিএ অফিসের সামনে থেকে একজন সংসদ সদস্যের কন্যার একটি দামি প্রাইভেটকার চুরি হয়।এ ঘটনায় ভিকটিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।পরে এ বিষয়ে মিরপুর বিভাগের (গোয়েন্দা) পুলিশ সংঘবদ্ধ অপরাধ কাউন্টার টেরোরিজিম, গাড়ী চুরি প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিম মামলাটি তদন্ত শুরু করে।তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হবিগঞ্জে প্রায় ২০ টি চোরাই গাড়ি রয়েছে ও অভিযুক্তদের শনাক্ত করে।জানা যায়, ‘চশমা তারেক’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খাতায় চোরাকারবারি হিসেবে তালিকাভূক্ত।হবিগঞ্জ শহরের তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় তার রয়েছে একটি চমশার দোকান।যে কারণে সে শহরে ‘চশমা তারেক’ নামে পরিচিত।মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোঁখ ফাঁকি দিতে চশমা ব্যবসার আড়ালে সে গড়ে তুলেছে চোরাকারবারির বিশাল সিন্ডিকেট।দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার একাধিক প্রশিক্ষিত গাড়ি চোর চক্র। এইসব চক্রের মাধ্যমে গাড়ি চুরি ও বেচা-কেনা করে থাকে সে।এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের চোরাই পথে চা-পাতা, গাড়ির টায়ার ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন দ্রব্য অবৈধ ভাবে আমদানি-রপ্তানি করে আসছিল।

তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় রয়েছে একাধিক মামলা। এ বিষয়ে অভিযান দলের প্রধান আশরাফুল ইসলাম জানান ,হবিগঞ্জ জেলায় একটি গাড়ি চোর চক্রের শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে।

এ চক্রের হোতা চশমা তারেক কে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এ চক্রের সাথে আর কারা কারা জড়িত রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে রহস্য উদঘাটন করা হবে।এ ছাড়া হবিগঞ্জে আরও ১০/১৫টি চোরাই গাড়ি রয়েছে। এগুলোও উদ্ধার করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর